Thu, Feb 26, 2026

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে নির্মমতা এবং ধর্ষণ

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে নির্মমতা এবং ধর্ষণ
  • PublishedAugust 3, 2025

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতিত হয় মাদ্রাসায়, তা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয় না। ধর্ম শিক্ষার নাম করে প্রতিদিন, মাদ্রাসার শিক্ষাগুরু দ্বারা শিশুরা শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মাদ্রাসার বেশির ভাগ ছাত্র ছাত্রী হয়তো এতীম, নয় গরিব পরিবার থেকে আসে, তাই তাদের উপর ধর্মের নামে ব্রেইন ওয়াসটা সহজ হয়। আমাদের দেশে অনেক ধর্ম গুরু রয়েছেন যারা ধর্মকে পুঁজি করে অন্যায় করে যাচ্ছেন, এবং প্রশ্রয়কারী কিন্তু আমাদের মৌনতা, মৌলবাদীতা।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র নয়, অনেক শিশুর জন্য এটি আশ্রয়স্থলও। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমাদের সামনে এক ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরেছে শিশু নির্যাতনের নির্মম চিত্র, যা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

২০২৫ সালে  লক্ষ্মীপুরের একটি হেফজখানায় মাত্র আট বছরের এক শিশুকে শিক্ষক ২৩ সেকেন্ডে ২১ বার বেত্রাঘাত করেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। একই মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী আরেক শিশুর মৃতদেহ পাওয়া যায়, যার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রশ্ন রয়ে যায়,এই শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?

রাজধানীর মিরপুরে তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী জামজাম ইসলাম রিতুলকে দুই ঘণ্টা ধরে স্টিলের স্কেল ও প্লাস্টিকের ঝাড়ু দিয়ে পেটানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

শুধু মাদ্রাসা নয়, ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসে ৪৮২টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, এবং ৫৮০ জন শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (BCRF)। এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটি সংখ্যা একটি ভাঙা শৈশবের প্রতিচ্ছবি।বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে চলে অবাধ যৌন নির্যাতন। যারা সমকামী মানুষ এবং LGBT গোষ্ঠীর অন্তর্গত, আমি আজ পর্যন্ত এরকম খবর কথাও দেখি নাই একজন সমকামী মানুষ তার যৌন চাহিদা মিটানোর জন্য ৩ বছরের বাচ্চাকে ধর্ষণ করেছে এবং হত্যা করেছে। শুধু ৩ বছরের বাচ্চাকে না, এক ৮ মাসের বাচ্চাকে ধর্ষণ করেছে। শিশুটির যৌনাঙ্গ ব্লেট দিয়ে কেটে সেখানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে তার বিকৃত যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য। একবার চিনটা করে দেখুন ৮ মাসের এক শিশু সে কিরকম অসহনীয় যন্ত্রণা পেয়েছিল যখন ব্লেড দিয়ে তার প্রাইভেট পার্ট কাঁটা হয়েছিলো। এই রকম বর্বর আচরণ করেছে একজন কোরানে হাফেজ ধর্ম শিক্ষক। এখানে শিশুটিকে আপনারা মেয়েদের পোশাক পরাকে দায়ী করবেন কিভাবে? কারণ আপনাদের কাছে মেয়েদের ধর্ষণের প্রধান কারণ তাদের পরনের পোশাককে দায়ী করেন।

মাদ্রাসাতে রাতের অন্ধকারে অনেক বাচ্চা এবং কিশোরেরা ধর্ষণের স্বীকার হয় অই মাদ্রাসার ইমাম এবং ধর্ম শিক্ষক দ্বারা। cctv ফুটেজ দেখার পর আপনারা বাচ্চাগুলোকেই দোষ দেন। তারা কেন এই মাদ্রাসাগুলোতে পড়তে আসে? এই জন্য দায়ী কে? বাচ্চাগুলো? নাকি ধর্মীয় হুজুরগুলো?  এরকম অপরাধ দেখার পর যারাই পড়ান ইসলামে সমকামিতার ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেন এবং সমকামিতাকে হারাম করে রেখেছেন আপনাদের কোরানের সেই আয়াতগুলোর কথা মনে থাকে না যখন ধর্ষণের মতো এতো জঘন্য অপরাধ করেন? আপনাদের মতো হুজুর , ইমাম, এবং আরবি শিক্ষক ধর্মকে ঢাল করে আপনাদের বিকৃত যৌন চাহিদা মেটান। আপনারা প্রকৃত পক্ষে সমকামী না। আপনারা ধর্ষণ করেন আপনাদের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য। সমকাম এবং ধর্ষণ সম্পূর্ণ ভাবে আলাদা। সমকামী মানুষ ভালবেসে সঙ্গ করে। বিশুদ্ধ প্রেম এবং প্রণয়ের প্রতীক সমকাম। আর  ধর্ষণ বলতে যৌন সহিংসতার এক গুরুতর রূপকে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে তার সম্মতি ছাড়াই, বলপ্রয়োগ, ভয় দেখানো, প্রতারণা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যৌন মিলন করে। কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা কেবল একটি শারীরিক আঘাতই নয়, বরং মানসিক, সামাজিক এবং মানবিক দিক থেকেও একটি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক অপরাধ। আর ধর্ষণের সাথে সমকামের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু এই ধর্ষণকে সমকামের নাম দিয়ে প্রকৃত সমকামকে অপরাধের নাম দিয়েছে এই মৌলবাদী ইসলামতন্ত্র।

যখনই মৌলবাদী ইসলামী মাদ্রাসা শিক্ষক এই বিকৃত ধর্ষণ অপরাধ সংঘটিত করে, এই ভয়ানক এবং বর্বর অপরাধকে ঢাকতে, ধর্মের মান বাঁচাতে খুন হয় সেই ধর্ষিত নিরাপরাধ শিশু- কিশোরেরা। লাশ গায়েব করে দেয়া হয়। লাশগুলোকে কেটে টুকরো করে গায়েব করে দেয়া হয়। এরই নাম  অনার কিলিং। খবরে আসে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার রিপোর্ট। তদন্তে যখন আসল অপরাধ ফাঁস হয় তখন সেই খবর প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। কারণ ইসলামকে কলুষিত করা যাবে না। রাষ্ট্র ঢাল হয়ে এই নরপিশাচদের রক্ষা করে। এরা হাই লেভেলের স্টেট প্রোটেকশন পায়। এরা পুলিশের পাহারায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে এবং সেমিনারে অংশ নেয়। অপরাজনিতির অন্ধকারাচ্ছন বেইমান মৌলবাদী ধর্ম ভিত্তিক দলের নেতা এরা।   কারণ যারা এই অপরাধ করেছে তারাই ইসলাম ধর্মের প্রচারক, শিক্ষক এবং রাজনৈতিক নেতা। এরাই ইসলামকে রক্ষা করার মৌলবাদী শাসক।  এরাই সমকামকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে সমকামকে কলঙ্কিত করেছে। পাবলিকদের জন্য ভয়ঙ্কর এক আইওয়াশ।

LEEDO নামক একটি শিশু অধিকার সংস্থা জানায়, শিশু নির্যাতন এখন ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বরিশাল, কুমিল্লা, ঢাকা, দেশের নানা প্রান্তে শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা ভয় বা সামাজিক লজ্জার কারণে অভিযোগ করেন না, ফলে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যায়। আমরা কি শুধু প্রতিবাদ করে থেমে যাব? নাকি এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব? এই অপরাধীদের স্টেট প্রোটেকশন দিচ্ছে। সরকারের ভিতরের উচ্চ মহল থেকে এরা রক্ষা পেয়ে আসছে। এই অপরাধকে ঠেকাতে আমাদেরকেই সোচ্চার হতে হবে। এই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমাদের দেশের বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ ভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে। দেশের বিচার বিভাগ সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সরকারের কালো থাবা থেকে বিচার বিভাগকে বের হয়ে আসতে হবে। স্বতন্ত্র হতে হবে বিচার বিভাগকে। তাহলেই প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পাবে। এই ইসলামের  ভণ্ড ধর্মনেতাদের মুখোশ খুলে ফেলতে হবে। বন্ধ করতে হবে ধর্মের নামে অত্যাচার এবং ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি।