আর্টিকেলপ্রবন্ধ

ধর্ম ব্যবসায়

লিখেছেনঃ আব্দুল আহাদ শান্ত

লাখ টাকার হেলিকপ্টারে উড়ে গিয়ে বক্তারা যখন ইনিয়ে-বিনিয়ে বলেন- “আমার নবীর ঘরে খেজুর পাতার ছাউনি ছিল! এক নাগারে তিনদিন নবীর চুলায় আগুন জ্বলত না! পেটে পাথর বেঁধে দিনের পর দিন দ্বীনের কাজ করে গেছেন আমার নবী”। তখন তাদের লজ্জা করে কি-না জানি না; আমরা শুনে লজ্জা পাই।

নতুন এক প্রচলন শুরু হয়েছে আজকাল। লাখ লাখ টাকা খরচ করে বক্তাদের উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য। আমার মনে হয়- হেলিকপ্টারে করে গিয়ে যাদের বয়ান করার শখ; তাদের বয়ান থেকে এক পয়সার হেদায়েত আশা করা বোকামি। হেদায়েত মুখের কথায় আসে না; হেদায়েতের সঙ্গে সহীহ্ নিয়ত এবং তাকওয়ার(একনিষ্ঠতা) সম্পর্ক জড়িত এবং বিশ্ববাসীর জন্য রহমত। আমার নবী(সাঃ) দিনের পর দিন না খেয়ে থেকে দ্বীনের কথা বলেছেন; সাহাবায়ে কেরাম গাছের পাতা খেয়ে ওয়াজ করে বেড়িয়েছেন।
আমরা ছোট থেকে বড় হওয়ার পথে আমাদের অনেক বুজুর্গ পায়ে হেঁটে/রিক্সায় কিংবা ভ্যানে চড়ে গিয়ে ওয়াজ করতেন। এমনও হয়েছে যে, ওয়াজ করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিদায় না নিয়েই চলে গেছেন। হাদিয়ার টাকা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ তাদের অনেককে খুঁজেও পায়নি।


আর এখন… ১৫হাজার, ২৫হাজার, ৩০হাজার, ১ লাখ, আগাম ফরম পূরণ, এডভান্স,গাড়ির তেল, ড্রাইভারের হাদিয়া, বিমানের টিকেট…
এভাবে যারা চুক্তির মাধ্যমে দরদাম করে ওয়াজ করে বেড়ায়(বেড়ান নয়) তাদের কাছ থেকে ইসলামের কি শিক্ষা লাভ হবে সেটাই বোধগম্য নয়।