ধর্ম দর্শন

তুমি মুরদাত তুমি কাফির, তোমার কোন অস্তিত্ব নেই

ইসলাম ধর্মে বরাবরি বলে অমুসলিমরা কাফির মুরতাদ।
এরা সমাজের নিকৃষ্ট জীব। একমাত্র ইসলাম ধমই হচ্ছে সহি ধর্ম। কিন্তু পৃথিবীর সকল
মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী নয়। ইসলামে কোরান বলা হয়েছে কাফিরদের কথা। সূরা, হাদিসে এ সকল বিষয়ে বিস্তর ভাবে আলোচনা করা আছে। যদি ইসলাম
শান্তির ধর্ম হয়ে থাকে তাহলে কেন কোরানে এধরনের অশান্তির কথা লেখা আছে? যদি আল্লাহ্‌ মানুষ সৃষ্টি করে থাকেন তাহলে শকল সৃষ্টি তার। তাহলে সকল
মানুষ এই সৃষ্টির অংশ। তাহলে যারা মুসলিম ধর্মে বিশ্বাস করেন না, তারা কি মানুষ নয়? ইসলামে তাদের কেন কাফির মুরতাদ
বলা হয়? 

মুসলিমরা সবসময়ই প্রচার করে এসেছেন যে ইসলাম
শান্তির ধর্ম। সাধারণ মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে ইসলাম সম্প্রীতির কথা বলে, ঘৃণা করতে শেখায় না। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, ইসলাম কারো প্রতি বিন্দু মাত্র অবিচার করে না। একজন মুসলিম হিসেবে তাদেরকে এমন
বিশ্বাস ধারণ করতেই হয়, কেননা একজন মুসলিম হিসেবে আপনি এমনটা কখনোই
বিশ্বাস করবেন না যে ইসলাম কোনোভাবে কারো প্রতি অবিচার করে। ইসলামের প্রকৃত রূপ কি
এমনই? না, অবশ্যই না। আসুন দেখে নিই, ইসলাম তাদেরকে কেমন দৃষ্টিতে দেখে যারা ইসলামে
বিশ্বাস করে না। আসুন দেখি, কুরআন মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের প্রতি কেমন মনোভাব
রাখার শিক্ষা দেয়। তাহলেই আমরা বুঝতে পারবো ইসলাম আসলেই শান্তির ধর্ম নাকি জঘন্য
একটি ধর্ম।

আর যারা কুফরী করেছে তাদের উদাহরণ তার মত, যে এমন কিছুর জন্য চিৎকার করছে, হাঁক-ডাক ছাড়া যে কিছু শোনে না। তারা বধির, বোবা, অন্ধ। তাই তারা বুঝে না।

আর যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের দৃষ্টান্ত ওদের
ন্যায় – যেমন কেহ আহবান করলে শুধু চীৎকার ও ধ্বনি ব্যতীত আর কিছুই শোনেনা, তারা বধির, মুক, অন্ধ; কাজেই তারা বুঝতে পারেনা।

অর্থাৎ কাফির ও মুশরিকদেরকে যখন বলা হয় যে, তারা যেন আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (সঃ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ এবং নিজেদের
ভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতাকে পরিত্যাগ করে, তখন তারা বলে যে, তারা তাদের বড়দের পথ ধরে রয়েছে। তাদের
পিতৃপুরুষ যাদের পূজা অর্চনা করতো তারাও তাদের উপাসনা করছে এবং করতে থাকবে। তাদের
উত্তরেই কুরআন ঘোষণা করছে যে, তাদের পিতৃপুরুষদের কোন জ্ঞান ছিল না এবং তারা
সুপথগামী ছিল না। এই আয়াতটি ইয়াহূদীদের সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। তাদের
দৃষ্টান্ত পেশ করছেন যে, যেমন মাঠে বিচরণকারী জন্তুগুলো রাখালের কথা
সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, শুধুমাত্র শব্দই ওদের কানে পৌঁছে থাকে এবং ওরা
কথার ভাল ও মন্দ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ রূপে অজ্ঞাত থাকে, এইসব লোকের অবস্থা ঠিক তদ্রূপ। এই আয়াতের ভাবার্থ এও হতে পারে যে, আল্লাহ তাআলাকে ছেড়ে এরা যাদের পূজা করে থাকে এবং তাদের প্রয়োজন ও মনস্কামনা
পূর্ণ করার প্রার্থনা জানিয়ে থাকে তারা এদের কথা শুনতে পায়, না জানতে পারে, না দেখতে পায়। তাদের মধ্যে না আছে জীবন, না আছে কোন অনুভূতি। কাফিরদের এই দলটি সত্য কথা শুনা হতে বধির, বলা হতে বোবা, সত্য পথে চলা হতে অন্ধ এবং সত্যের অনুধাবন হতেও এরা বহু দূরে রয়েছে। যেমন
অন্য স্থানে আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ ‘আমার আয়াতসমূহে অবিশ্বাসকারীরা বধির, বোবা, তারা অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে, আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান সরল
ও সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

কুরআন ২:১৭০-১৭১

আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন সুপথে নিজেদের মাল খরচ করে, তাহলে আল্লাহর নিকট তার পুণ্য জমা থাকবে। অতঃপর
বলেন যে, তারা যেন তাদের জীবদ্দশাতেই কিছু দান-খয়রাত করে। কেননা কিয়ামতের দিন না
ক্রয়-বিক্রয় চলবে, না পৃথিবী পরিমাণ সোনা দিয়ে জীবন রক্ষা করা
যাবে না কারও বংশ, বন্ধুত্ব ও ভালবাসা কোন কাজে আসবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ
যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সে দিন না তাদের মধ্যে বংশ পরিচয় থাকবে, না একে অপরের অবস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’ (২৩:১০১) সেদিন সুপারিশকারীর সুপারিশ কোন কাজে
আসবে না।

অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলেন যে, কাফিরেরাই অত্যাচারী। অর্থাৎ পূর্ণ অত্যাচারী
তারাই যারা কুফরের অবস্থাতেই আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ করে। হযরত আতা বিন দীনার (রঃ)
বলেন, “আমি মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তিনি কাফিরদেরকে অত্যাচারী বলেছেন কিন্তু
অত্যাচারীদেরকে কাফির বলেননি।

কুরআন ২:২৫৪

আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের পরিণাম বর্ণনা করছেন যে, কাফির, ইয়াহুদী, নাসারা, মুশরিক, আরব ও অনারব যেই হোক না কেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর বিরোধ এবং
আল্লাহর কিতাবকে অবিশ্বাস করে তারা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে, সেখানেই তারা চিরকাল অবস্থান করবে। কোন অবস্থাতেই তারা সেখান থেকে ছাড়া বা
রেহাই পাবে না। এরাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।

কুরআন ৯৮:৬

কোরানে যদি এভাবে বলা হয়ে থাকে তাহলে ইসলামকে
শান্তির ধর্ম বলই কি করে? অনেকে এসে বলবে কাফির বা মিরতাদ
যারা তারা অধর্মের অংশ। সেখানে আমার মতো অবিশ্বাসী যারা টাদেরকে বোঝানো হয়েছে। যদি
তাই হয়ে থাকে তাহলে যারা হিন্দু, খ্রিস্টান, বোদ্ধো, এরা তো অমুসলিম। এরা মুসলিম ধর্ম পালন করেন
না। তাহলে কি করে এরা কাফের বা মুরতাদ হয়ে যায়? আর যারা কোন
ধর্মে বিশ্বাস করে না? ওদের অস্তিত্ব কোথায়? এরা কি আসলে মানুষের পর্যায়ে পড়ে না? নাকি মানুষ
হবার জন্য শুধু নির্দিষ্ট এই ইসলাম ধর্মই পালন করা এসময়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি.